মেনু নির্বাচন করুন

এক নজরে চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়ন

ময়মনসিংহ শহরের কোল ঘেষে বহমান ব্রহ্মপূত্রের অপর তীরঁছুয়ে চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়নের অবস্থান।নদীর অববাহিকার অতি নিকটে অবস্থানের কারণে ইউনিয়নের গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে মাত্র কিছুদিন আগেও ছিল নদীমাতৃক বাংলার জীবমত্ম দৃশ্যপট। কিমত্ম নদীর উপর মানুষের   অব্যাহত দুঃশাসন আর জোরপূর্বক পরিবর্তিত জলবায়ুর বৈরি চরিত্রের রোষানলে পরে ব্রহ্মপূত্রের ক্রমাগত মৃত্যুর দিকে ধাবিত হওয়ার ফলশ্রম্নতিতে চর ঈশ্বরদিয়ার ঐতিহ্যগত নদীমাতৃক ভৌগলিকতার পরিবর্তন ঘটতে থাকে।জমিদার শাসন আমলে বিখ্যাত জমিদার অঞ্চল মুক্তাগাছাও ময়মনসিংহ  থেকে জমিদারদের স্থল পথে  কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর পর্যমত্ম যাতায়াত ও পন্য পরিবহনের অন্যতম পথ ছিল উক্ত ইউনিয়নে অবস্থিত গুতারাঘাট দিয়ে। বলা যায় এ এলাকাটি দিয়েই ছিল ময়মনসিংহেরপূর্বমুখীপ্রবেশদ্বার। আর চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়নটি এ পূরো এলাকাটি ঘিরেইঅবস্থিত যার গুরম্নত্বও একসময় ছিল বেশ। কিমত্ম কালের পরিক্রমায় বৃটিশ, পাকিসত্মান এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ আমলে ঐতিহাসিক বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতেএখানকার তাৎপর্যেরও পরিবর্তন হয়। ব্রহ্মপূত্র নদের গতিময়তার ছন্দপতন এ এলাকাটিকে অনেক বেশিশ্রীহীন করে দেয়। আসে মাটির গুনাগুণেপরিবর্তন। নদীতে পানি প্রবাহের ভাটার ফলে সেচ ব্যবস্থার ভিত্তি নড়ে যায় যা এলাকার কৃষিপ্রধান অর্থনীতির ভিত্তিকেও নড়বড়ে করে দেয়। এক সময়কার পলিময় দো-অাঁশ মটি এখন পরিণত হয়েছে বেলে দো-ঁআশ এ। জমির ধরন সমতল।কয়েকটি ছোট বিলসহ ইউনিযনের অল্পাংশকে কিছুটা নিমণাঞ্চল বলা যেতেপারে যা বছরের দু-তিন মাস কৃষি অনুপযোগী থাকে এছাড়া এলাকার মোট জমির প্রায় শতভাগই কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়। ইউনিয়নের মোট রাসত্মার মধ্যে মাত্র ২৫%পাকা রাসত্মা রয়েছে  যার পরিমান ২২ কি. মি.। বাকি প্রায় ৬৭কি.মি.রাসত্মার অনেকটা একাধিকবার মেরামত করা বা মাটি ফালানো কাঁচা এবং অবশিষ্টাংশ আদি হালট রাসত্মার অসংস্কারিত অবস্থায় বিদ্যমান আছে। এলাকার ঘরবাড়ির মধ্যে ১৫%পাকা ২০%-২৫% আধাপাকা এবংঅবশিষ্ট কাঁচা।

 

সাধারণ অবস্থা ও মানুষের জীবন ধারাঃ

চর ঈশ্বরদিয়াইউনিয়নটির পশ্চিমভাগ দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ প্রবাহিত। সূদীর্ঘ কাল ধরে বহমান এ নদের দুপাশে সেকারনে নদীমাতৃক অর্থনীতি ও জীবনাচার বিরাজমান। এখানকার ভু-প্রকৃতি ও মাটির ধরনে নদীর সহজাত প্রভাব স্পষ্ট থাকায় এখানে রয়েছে একদিকে নিমণাঞ্চল এবং ছোট ছোট চর থেকে গোড়াপত্তন হওয়া বেশ কিছু গ্রাম। নদীর নিকটবর্তী গ্রামগুলোর অধিবাসীদের রয়েছে ঐতিহ্যগত মৎস্যজীবী জীবনাচার ও পেশাগত বৈশিষ্ট্য অন্যদিকে চরের মানুষগুলো দেশের অন্যাঞ্চল থেকে আসা অভিবাসী। নদীর দুপাশের মাঠগুলো বছরের একটি সময়ে পস্নাবিত হয় বলে যথেষ্ট পলিময় তাই এখানে মানুষের মথ্যে কৃষিকাজে তোরজোড় চোখে পড়ার মতো। তবে মোট কথা হলো অঞ্চলটি ঐতিহাসিক ভাবেই দারিদ্রপীড়িত, নদী ভাঙ্গনের শিকার এবং অবহেলিত। কিছু বড় কৃষিজীবী পরিবার থাকলেও সিংহভাগ মানুষই শ্রমজীবী। শ্রমজীবীদের একটা অংশ ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসায় শ্রমিক হিসেবে আর কিছু অংশ ছোট যানবাহন যেমন রিক্সা, ভটভটি , অটো, সিএনজি, টেম্পু ইত্যাদি চালনার সাথে যুক্ত। নারীদের সামজিক ও অথনৈতিক গতিশীলতা এখানে বেশ সীমিত। শিক্ষারহার তুলনামূলক কম। সমাজে নিকটস্থ এলাকার বিবেচনায় রক্ষনশীলতা জোড়ালোভাবে বিরাজমান। আর নিমণও চরাঞ্চল হওয়ায় সরকারি সুযোগ-সুবিধা  এবং অত্যাবশ্যকীয় পরিসেবাগুলো পৌছানোর ক্ষেত্রেও এলাকাটি অবহেলিত ফলে  শহরের খুব কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও মানুষের শারীরিক ও সামাজিক ঝুকি বেশ প্রকট।

 

 

ক) নাম: ৬নং চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ

খ) আয়াতন ৩৪.৬৬৮(বর্গ কি: মি:)

গ) মোট লোক সংখ্যাঃ ৫০০৪৪,পুরুষঃ ২৫২৮০,মহিলাঃ ২৪৭৬৪

ঘ) গ্রামের সংখ্যা -৯টি

ঙ) মৌজা -৫টি

চ) হাট/বাজার সংখ্যা -৫টি, (১) জুটমিল গেইট বাজার, (২) পুরাতন বাসষ্ট্যান্ডবাজার, (৩) গাঙ্গীনারপাড় বাজার, (৪) ঈশ্বরদিয়া বাজার,   

   (৫) চর লক্ষীপুরকালাকুড়েরপাড় বাজার।

ছ) উপজেলা সদর থেকে যোগাযোগের মাধ্যম - টেম্পু,সি.এন.জি,বাস

জ) শিক্ষার হার ৮৫.৮২ (২০০১এর শিক্ষার জরীপ অনুযায়ী) 

১) নির্বাচিতপরিষদসদস্য–১৩জন।

২) ইউনিয়নপরিষদসচিব–১জন।

৩) ইউনিয়নগ্রামপুলিশ–৯জন।